স্টাফ রিপোর্টার ঃ ২৯ আগস্ট ২০২৬ , ৩:২৩:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতা ও অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মাঝে ফলের চারা বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগষ্ট) সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাই স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও যুক্তিবোধের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে ঘন্টাব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১০টি প্রতিষ্ঠানের ৩২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা পরবর্তী প্রতিযোগীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহবান জানিয়ে বলেন- শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও স্বনির্ভর করতে সক্ষম তাহলেই এখনকার শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী যোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে এবং দক্ষভাবে দেশের নেতৃত্ব দেবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে পারলে আগামীতে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। নইলে আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার অনেক মাধ্যম রয়েছে। আমরা বই পড়ে শিখি, ক্লাসে শিখি, তর্কবিতর্ক করে শিখি এবং সিনেমা দেখে শিখি। বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষায় উৎসাহিত করতেই ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট-২০২৬ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ করে শিক্ষা দেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ডিসি’স সায়েন্স ট্যালেন্ট হান্ট-২০২৬ প্রতিযোগিতা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ বাড়াবে। জাতীয় উন্নয়নের জন্য এ কর্মসূচি বড় ভূমিকা পালন করবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্নভাবে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আমার ধারণা জন্মেছে, আমাদের দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেছে। কিন্তু উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞানের প্রতি গুরুত্ব বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ সময় তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞানীর জীবনী ও আবিষ্কার বিষয়ে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে-জেলার প্রতিটি স্কুল ও কলেজের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি জুনিয়র ও সিনিয়র দুই গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পর্যায়ে দুই গ্রুপে প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা আগামী ৫ সেপ্টেম্বর জেলা পর্যায়ের মূলপ্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
ঘণ্টাব্যাপী এই প্রতিযোগীতায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, গণিত, মানসিক দক্ষতা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে মোট ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় শিক্ষার্থীদের।
এদিকে পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, প্রতিযোগী, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজ্ঞান শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করা হয় পাশাপাশি মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেওয়া হয়। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিবাবক ও সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















