সারাদেশ

ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের শীর্ষে আরমান মীর

  অনন্ত আহাম্মেদ রিফাত : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৪:৪৩:০১ প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ৪নং ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে এলাকার সর্বত্র শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
এরই মধ্যে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আরমান মীরের নাম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক কাজ-কর্মে সহযোগীতার কারণে আরমান কে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশের সাথে তাঁর রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্ব শুধু রাস্তা, কালভার্ট বা অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই। একটি আদর্শ ইউনিয়নের জন্য প্রয়োজন সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হলো জনগণের কথা শোনা, তাদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা। চেয়ারম্যানের কার্যালয় শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জায়গা নয়; এটি হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ও আস্থার স্থান। আধুনিক নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জবাবদিহিতা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির কাছে জনগণের প্রত্যাশাও থাকে বেশি। উন্নয়ন কর্মকান্ডে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ইউনিয়নের উন্নয়নের বিষয়ে জনগণকে অবহিত করতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে হবে প্রয়োজনভিত্তিক এবং বাস্তবায়নে থাকতে হবে স্বচ্ছতা।

তরুণ প্রজন্মকে উন্নয়নের অংশীদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ধীতপুর ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সামাজিক কর্মকান্ড ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের তরুণ সমাজের সামনে বড় বাধা মাদক। মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেই হবে না; তরুণদের জন্য বিকল্প সুস্থ পরিবেশ ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। মাঠে থাকবে তরুণদের পদচারণা, খেলায় তৈরি হবে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলায় গড়ে উঠবে চরিত্র, আর সুস্থ বিনোদন। তবেই দূরে থাকবে মাদক।

শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো দিয়ে সমাজের উন্নয়ন পরিমাপ করা যায় না। মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ—সবকিছুর সমন্বয়েই একটি উন্নত সমাজ তৈরি হয়। তিনি বলেন আমার লক্ষ্য থাকবে ধীতপুর ইউনিয়নে এমন একটি সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা যেখানে মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে, তরুণরা ইতিবাচক কাজে যুক্ত হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন এগিয়ে যাবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি জনগণের দৌড়গরায় পৌছে দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের নাগরিক সেবাকেও সময়ের সঙ্গে আধুনিক ও সহজ করা হবে। সাধারণ মানুষ যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারে—এটাই হওয়া উচিত স্থানীয় সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে রাজনীতি মানে শুধু স্লোগান নয়, কাজে ফলাফল দেখতে চায়। তারা চায় এমন নেতৃত্ব, যে নেতৃত্ব মানুষের কথা শুনবে, নতুন চিন্তা করবে, ভুল হলে জনগণের কাছে জবাব দেবে এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবে। এই পরিবর্তিত প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আমি ৪নং ধীতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

 

আরও খবর

Sponsered content