স্টাফ রিপোর্টার ঃ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১২:৫৫:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র রেলসেতু পার হওয়ার সময় ট্রেনের সামনে চলে আসা এক যুবককে চালকের তৎপরতায় উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ৭৭৮ নম্বর ‘হাওড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ব্রহ্মপুত্র রেলসেতু পার হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। চালকের তাৎক্ষণিক ব্রেক প্রয়োগ, দীর্ঘ হুইসেল এবং ধীরগতিতে ট্রেন চালানোর মতো বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের কারণে এড়াতে পেরেছে এক বড় দুর্ঘটনা।
ট্রেনচালক লোকো মাস্টার সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র রেলসেতুতে ওঠার আগে গোলাই এলাকায় থাকা অবস্থায় তিনি দুই থেকে তিনবার দীর্ঘ হুইসেল দেন। তখন ট্রেনটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার। গোলাই পার হয়ে সেতুর ওপর ওঠার পর সোজা লাইনে এসে তিনি দেখতে পান, ছাতা মাথায় এক যুবক রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছেন। তখন ট্রেন থেকে যুবকটির দূরত্ব ছিল আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ গজ। বিষয়টি দেখতে পেয়েই চালক থ্রটল আইডলে নিয়ে ব্রেক প্রয়োগ করেন এবং একটানা হুইসেল দিতে থাকেন। হুইসেলের শব্দ শুনে যুবকটি প্রথমে থমকে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরে ট্রেনের দিকে তাকান। পরে তিনি সামনের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন।
এ সময় চালক ট্রেনের গতি আরও কমিয়ে প্রায় হাঁটার গতিতে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে যুবকটি সেতুর এক পাশে দাঁড়ানোর মতো জায়গায় পৌঁছে ছাতা বন্ধ করে রেলিংয়ের ওপর দুই হাত রেখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে পড়েন। পরে চালক ধীরে ধীরে ট্রেনটি তার পাশ দিয়ে নিয়ে সেতু পার হন। পুরো সময় চালক ও তার সহকর্মীরা যুবকটির দিকে নজর রাখেন। শেষ বগিতে থাকা ট্রেন পরিচালকও ঘটনাটি লক্ষ্য করেন বলে জানান চালক। তবে ব্রহ্মপুত্র রেলসেতুতে ট্রেনের সামনে দৌড়ানো ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ট্রেনের লোকো মাস্টার এনায়েত ধ্রুব বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় একটি দুর্ঘটনা থেকে ওই যুবকটি রক্ষা পেয়েছেন। তাকে দেখতে পেয়েই আমি দ্রুত ব্রেক প্রয়োগ করি এবং একটানা হুইসেল দিতে থাকি। হুইসেলের শব্দ শুনে তিনি প্রথমে পেছনে ফিরে ট্রেনের দিকে তাকান, পরে সামনের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘তখন আমার সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল, তিনি যেন আতঙ্কিত হয়ে ব্রিজ থেকে লাফ দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত না নেন। তাই ট্রেনের গতি আরও কমিয়ে ধীরে ধীরে তার পেছনে এগোতে থাকি। শেষ পর্যন্ত তিনি ব্রিজের এক পাশে দাঁড়ানোর মতো জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হন। আল্লাহর রহমতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
চালক আরও বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের জন্যও অত্যন্ত আতঙ্কের ছিল। একটি মুহূর্তের ভুল বা অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। আল্লাহ ওই যুবককে যেমন রক্ষা করেছেন, তেমনি আমাদেরও একটি বড় মানসিক যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ব্রহ্মপুত্র রেলসেতুতে পথচারীদের চলাচলের ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনে ওঠা বা হাঁটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

















