সারাদেশ

দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে মমেক হাসপাতাল পরিদর্শণ কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  স্টাফ রিপোর্টার ঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৩৯:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নানা অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ময়লার ভাগাড়ে পড়ে থাকা এবং চিকিৎসক-নার্সদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
হাসপাতালের ময়লার ভাগাড়ে ক্যানুলা, সিরিঞ্জসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়ার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব অব্যবস্থাপনা দেখতে পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ড, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওয়ার্ডের পরিবেশ ও ওয়াশরুমের অবস্থাও তদারকি করেন। এছাড়া হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে হয়েছে কেন, তা জানতে চান মন্ত্রী। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে ওই রোগীকে স্যালাইন কেনার জন্য এক হাজার টাকা দেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনকালে কয়েকজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়ার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁদের রোস্টার সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কতজন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন, তা যাচাই করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ কেউ সকাল ১০টা কিংবা পৌনে ১১টায় হাসপাতালে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়া হাসপাতালে অগ্নিকান্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণ জানতে চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জবাবে ছুটির কারণে প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে জেলার ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা, লুটপাট ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে কিংবা এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়। তবে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন গতি ফিরিয়ে এনে সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীর চাপকে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন এক হাজার রোগীর ধারণক্ষমতার বিপরীতে তিন থেকে চার হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। শুধু ময়মনসিংহ নয়, আশপাশের আট থেকে দশটি জেলার রোগীরাও এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ফলে চিকিৎসক, শয্যা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর তৈরি হচ্ছে প্রচন্ড চাপ।
মন্ত্রী জানান, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিসরে টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ, পাঁচটি রোবটিক সার্জারি ব্যবস্থা আনা এবং পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানো এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তর করে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, একজন রোগীর মৃত্যুতেও সবার মন কাঁদে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা কম থাকায় চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। একজন চিকিৎসক যেখানে ৫০ জন রোগী দেখার সক্ষমতা রাখেন, সেখানে তাঁকে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী দেখতে হলে স্বাভাবিকভাবেই সেবায় চাপ পড়ে। তবে এ কারণে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উপেক্ষা করা হবে না। কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা বিভিন্ন অনিয়ম ও ভুলত্রুটি তুলে ধরছেন বলেই সেগুলো সংশোধনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভালো কাজের প্রশংসা এবং খারাপ কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বক্তব্য ও প্রতিবেদন থেকে সরকার সংশোধিত হতে চায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার কাজ শুরু হয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, জনবল নিয়োগ ও সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিসি’স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন সদর ইউএনও

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্বীকৃতিস্বরূপ ময়মনসিংহে ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডিসি’স অ্যাওয়ার্ড ফর ক্লিনলিনেস পুরস্কার প্রদান

দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে মমেক হাসপাতাল পরিদর্শণ কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ময়মনসিংহ ২১ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করল সদর উপজেলা প্রশাসন

ময়মনসিংহে আর্যধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভা দূর্গাবাড়ী’র আয়োজনে মহাবিজয়ার শুভাযাত্রা

উৎসব মূখর ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিমা বিসর্জন ৫দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তী

Sponsered content

আরও খবর: ময়মনসিংহ

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিসি’স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন সদর ইউএনও

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্বীকৃতিস্বরূপ ময়মনসিংহে ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডিসি’স অ্যাওয়ার্ড ফর ক্লিনলিনেস পুরস্কার প্রদান

দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে মমেক হাসপাতাল পরিদর্শণ কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ময়মনসিংহ ২১ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করল সদর উপজেলা প্রশাসন

ময়মনসিংহে আর্যধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভা দূর্গাবাড়ী’র আয়োজনে মহাবিজয়ার শুভাযাত্রা

উৎসব মূখর ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিমা বিসর্জন ৫দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তী