স্টাফ রিপোর্টার ঃ ২১ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৩৯:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ
বুধবার (২১ অক্টোবর/২৬) ৩ কার্তিক সকালে দেবীর পায়ে পুস্পাঞ্জলী, পূজা সমাপন, দর্পণ বিসর্জন, প্রতিমা নিরঞ্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে সনাতধর্মালম্বীদের ৫দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাবিজয়া দশমী সমাপ্ত হয়েছে। এদিন সকাল ৬টায় পূজা আরম্ভ, সকাল সাড়ে ৮টায় পুস্পাঞ্জলী এবং পূজা সমাপন। দর্পণ সির্জন সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় দুর্গাবাড়ি মন্দির থেকে উৎসব মুখর পরিবেশে বিজয়া দশমীর শুভাযাত্রা এবং শান্তিপূর্ন ভাবে নগরীর কাচারিঘাটস্থ ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এদিন সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সহ অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ প্রতিমা বিশর্জন ঘাট পরিদর্শণ করেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ময়মনসিংহ আর্যধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভা (ধর্মসভা) দূর্গাবাড়ী মন্দির কমিটির আয়োজনে মন্দির প্রাঙ্গন থেকে এক বিজয়ার শুভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাচারীঘাটস্থ ব্্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে গিয়ে উপস্থিত হন। একই ভাবে নগরীর অন্যান্য মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ভক্তবৃন্দদের সাথে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে উপস্থিত হন এবং একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেন।
এদিকে কাচারীঘাটস্থ ব্্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বির্সজন ঘাটে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে প্রতিমা বির্সজনে আসা পুজারী ভক্তবৃন্দদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। এসময় বিশর্জন ঘাটে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা এ ইচ এম আরিফুল ইসলাম, পরিবহণ বিভাগের মহা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন, নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ^াস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার নন্দী, খাদ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মুজুমদার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাব্বত আলী, কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শিবিরুল ইসলাম সহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন পূজামন্ডপের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুল সংখ্যাক ভক্ত, দর্শনার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রতিমা বির্জনকালে ঘাটে ও রাস্তায় সার্বিক আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি, পুলিশ, এসআরবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস টিম ও স্বেচ্ছা সেবক নিয়োজিত ছিলেন। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিসর্জন ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, প্যান্ডেল, সিকিউরিটি বুথ, প্রবেশ ও বাহির হবার রাস্তা নির্মাণ, মেডিকেল বুথ ও পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ অঞ্চলে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ছিল মহা-নবমী। মন্ডপে মন্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ঢল। মহা-নবমী পূজা শেষে মন্ডপে মন্ডপে অঞ্জলী প্রদান, চন্ডীগ্রন্থ পাঠ, প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার ষষ্ঠী পূজা, দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। অসুরের বিনাশ আর শান্তি কল্যাণ ও সমৃদ্ধি লাভের আশায় যুগযুগ ধরে মা দুর্গার আরাধনা করে আসছে হিন্দু সম্প্রদায়। বিজয়া দশমীতে ময়মনসিংহ মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায় ব্্রহ্মপুত্র নদে ও পারিবারিক জলাশয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবীদুর্গাকে বিসর্জন দেয়।

















