স্টাফ রিপোর্টার ঃ ১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১:২৪:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আর্যধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভা (ধর্মসভা) দুর্গাবাড়ী মন্দির পরিদর্শণ করেন এবং মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ময়মনসিংহ বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন পিএসসি।
পরিদর্শণ শেষে এক প্রেস ব্রিফিংএ তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘেœ ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ২৪/৭ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আমরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বিশেষ করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়কে সতর্ক নজরদারি এবং যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সারা দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমাদের ময়মনসিংহ সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা জামালপুর হতে নেত্রকোনা পর্যন্ত ১০৮টি পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত আছে। এর মধ্যে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭৭টি (ঝুঁকিপূর্ণ-৮টি), ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৩১টি (ঝুঁকিপূর্ণ-২টি) পূজামন্ডপ অন্তভূক্ত রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। বিগত ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর-২০২৬ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্র¯স্তুত রয়েছে।
আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই কার্যক্রমের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ক্ষেত্রে সবার প্রতি আমার আহ্বান থাকবে গুজবে কান দেবেন না, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করবেন না এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন। বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। আসুন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলি। পরে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল ভাইবোনকে জানাই শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। সবার জীবন আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতিতে পরিপূর্ণ হোক।এসময় আর্যধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভা (ধর্মসভা) দুর্গাবাড়ী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর সাহা, স্বপন দাস, পূজা উপ-কমিটির সভাপতি পরিতোষ দাস,ম্পাদক বিকন ভট্টাচার্য্য সহ মন্দির কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















