স্টাফ রিপোর্টার ঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১২:২২:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেছেন, নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হয়ে বৈধ পথে বিদেশ যেতে হবে। যে কোন দেশে যাওয়ার পূর্বে ওই দেশের ভাষা, আইন এবং যেকোন একটি কাজের বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে গেলে, বিদেশ গিয়ে হয়রানির সম্মুখীন হতে হবে না। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্ট্রেন্দেনিং সেইফ মাইগ্রেশন সার্ভিস এন্ড রেফারেল প্ল্যাটফর্ম প্রকল্প (এমএসইপি) এর আওতায় নগরীর হরিকিশোর রায় রোডস্থ এমআরএসসি কার্যালয়ে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবর্গের সাথে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাদের দেশের রিজাভকে মজবুত করে প্রবাসীদের রেমিটেন্স। আমরা যাতে প্রবাসীদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং সুরক্ষা দিতে পারি সেভাবে কাজ করতে হবে। তিনি নিজ এলাকার উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমার চাচাতো জেঠাতো ভাই বিদেশ গিয়েছে এবং তারা ভালই আছে। এটা দেখে আরও বেশ কয়েকজন যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মিডিল ম্যানের মাধ্যমে। এই মিডিল ম্যানরা আগের কাজ দেখিয়ে তারা অনেক ভাবে প্রতারণা করছে। শেষে দেখা গেলো তারা আর বাড়িতে থাকতে পারতেছে না। কারণ দালাল টাকা নিয়েছে ঠিকই কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা ভিসাও পাচ্ছে না বিদেশও যেতে পারছেনা। পরিশেষে প্রশাসনের দারস্থ। তাই না বুঝে শুনে বিদেশ যাওয়ার জন্য কাউকে টাকা পয়সা দিবেন না। আমাদের মাঝে সচেতনতার অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে প্রচার প্রচারনা খুবই কম। মানুষ যাতে বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে যেন সর্বসান্ত হয়ে না যায় সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। তারা ৮/১০ লাখ টাকা দিয়ে যেন প্রপার চ্যানেলে যেতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাঁর ভিসাটা যেন সঠিক হয়। গ্রামের মানুষ অনেক কিছুই বুঝে না। টাকা দিয়েই কোন কিছু যাচাই বাছাই না করেই বিদেশ চলে যায়। তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক জেলা সমন্বয়ক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন টিটিসি অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ মাহতাব উদ্দিন, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মোঃ লেহাজ উদ্দিন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রিপন রায় প্রমুখ।
বিষয়বস্তুর উপর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এমআরএসসি কোঅর্ডিনেটর মো: নাসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা এবং সারাবিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এনজিও- ব্র্যাক, ১৯৭২ সালের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে দেশে ও দেশের বাইরে নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কর্মসূচি হল মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। ব্র্যাকের এই প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে দেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাসমূহে বিদেশগামী নারী ও পুরুষের মাঝে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম, বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, অভিবাসন খাতে অ্যাডভোকেসি ও নানাবিধ সহযোগিতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। এসময় সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ইমাম, পুরোহিত, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সদস্যবৃন্দ ও সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















