স্টাফ রিপোর্টার ঃ ২ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৪৫:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহ নগরের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে রমহতপুর বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন-জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা জামালপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সংঘর্ষের পর অটোরিকশার ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাসটি সরিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি বের করা হয়। পরে সিএনজির ভেতর থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ দেখতে পান তাঁরা। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সিএনজির ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি এমনভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় যে ভেতরে থাকা যাত্রীদের বের করতে উদ্ধারকর্মীদের কাজ করতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন বাসটি ঠেলে সরিয়ে সিএনজিটি বের করেন। পরে সিএনজির ভেতর থেকে নিহতদের বের করে আনা হয়। তারা আরও বলেন, এ সড়কে দিন দিন যানবাহনের চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাঁদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করা মরদেহগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
ওসি জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে। পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি জব্দ করে রাখা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তাঁরা বাস রেখে চলে গেছেন। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে।
স্বজনদের কেউ কেউ খবর পেয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান। পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কান্নার আহাজারি শুরু হয়।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। বাসের চালক ও সহকারীকে আটক করা গেলে দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

















