সারাদেশ

ভালুকায় ফেসবুক লাইভে সরকারের সমালোচনা করা নারী উদ্যোক্তার জামিন

  স্টাফ রিপোর্টার ঃ ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৩:৪৯:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করার পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের উত্তেজনার মুখে গ্রেপ্তার সাথী আক্তারকে (৩০) জামিন দিয়েছে আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ষ্ঠ আদালতের বিচারক সাজিদুল ইসলাম নিজ জিম্মায় ৫০০ টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি সম্প্রচারে আসেন সাথী আক্তার। সেখানে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনা নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর দুটি শোরুম এবং আশপাশের কয়েকটি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক তার, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। এমনকি তাঁর বাসা থেকেও মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
একের পর এক চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন জানিয়ে সাথী আক্তার বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভোট দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আক্ষেপ করে বলেন, ‘কাকে ভোট দিয়ে আজ এই ভুক্তভোগী হলাম!’
তাঁর এই বক্তব্যে বিএনপি সরকার ও দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা উঠে আসে। পরে ফেসবুক লাইভটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। রাতে স্থানীয় লোকজন ও রাজনৈতিক কর্মীরা ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় তাঁর পার্লারে গিয়ে বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পার্লারে ভাঙচুর বা হামলার আশঙ্কায় থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাথী আক্তারকে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন তাকে ১৫১ ধারায় সাথীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রদান বা মতপ্রকাশের কারণে নয়, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দ্বারা ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কায় আইনানুগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

আরও খবর

Sponsered content