স্টাফ রিপোর্টার ঃ ৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২:০১:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
শনিবার (১০ অক্টোবর) শুভ মহালয়া। শুভ মহালয়া পূণ্য প্রভাতে দেবী আবাহন। ভোর সাড়ে ৫টায় বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে দুর্গাবাড়ি নাট মন্দিরে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজার শুভ সুচনা হবে। আর্যধর্ম জ্ঞানপ্রদায়িনী সভা (ধর্মসভা) দুর্গাবাড়ি মন্দির আয়োজিত দেবী আবাহনে থাকবে শঙ্খ ও উলুধ্বনি, শ্রী শ্রী চন্ডিপাঠ, সমবেত সঙ্গীত, মাতৃ বন্দনা ও নৃত্য। দেবী আবাহন অনুষ্ঠানে আপনাদের সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আর্যধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভা (ধর্মসভা) দুর্গাবাড়ি সভাপতি প্রফেসর বিমল কান্তি দে ও সাধারণ সম্পাদক শংকর সাহা।
মহালয় প্রসঙ্গে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলা হয়েছে, যে ক্ষণে পরমাত্মায় অর্থাৎ পরব্রহ্মে লয় প্রাপ্তি ঘটে সেটিই হল মহালয়। কেননা, পরমাত্মাই হল পরব্রহ্ম। আর নিরাকার ব্রহ্মের আশ্রয়ই হল মহালয়। তবে শ্রী শ্রী চন্ডিতে মহালয় হচ্ছে পুজো বা উৎসবের আলয়। এখানে আলয় শব্দটির একটি অর্থ হচ্ছে আশ্রয়। চন্ডিতে তাই ‘মহালয়’ বলতে ‘পিতৃলোককে বোঝানো হয়েছে। পিতৃলোককে স্মরণের ক্ষণকেই বলা হয়েছে মহালয়া। এই সন্ধিক্ষণটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ ধরে ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। বলা হয়, মহালয়া হয় অমাবস্যা তিথিতে যা উত্তরায়ণের শেষ সময়। এরপরই সূর্যের দক্ষিণায়ণ গতি শুরু হয়। যা শুভ বলে বিবেচিত নয়। কৃষ্ণপক্ষে কালিমার ক্রমশ লয় হতে হতে অমাবস্যা তিথিতে সে লয় পূর্ণতা পায়। তাই একে বলে মহালয়া।
সবাই নিশ্চিত মহালয়া মানে দূর্গাপূজার দিন গোনা, মহালয়ার ৬ দিন পর মহাষষ্ঠী, তাই দেবিকে আমত্রন বা আবাহন ইত্যাদি। মহালয়ার তার চেয়ে বড় গুরুত্ব আছে। ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অকালে দেবিকে আরাধনা করেছিলেন লঙ্কা জয় করে সীতাকে উদ্ধারের জন্য। আসল দূর্গা পূজা হলো বসন্তে, সেটাকে বাসন্তি পূজা বলা হয়। শ্রীরামচন্দ্র অকালে-অসময়ে পূজা করেছিলেন বলে এই শরতের পূজাকে দেবির অকাল-বোধন বলা হয়। সনাতন ধর্মে কোন শুভ কাজ করতে গেলে, বিবাহ করতে গেলে প্রয়াত পূর্বরা, যাদের পিতা-মাতা তাদের পিতা-মাতার জন্য, সাথে সমগ্র জীব-জগতের জন্য তর্পণ করতে হয়, কার্যাদি-অঞ্জলি প্রদান করতে হয়। তর্পণ মানে খুশি করা। ভগবান শ্রীরাম লঙ্কা বিজয়ের আগে এদিনে এমনই করেছিলেন। সেই অনুসারে এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপুরুষের স্মরণ করে, পূর্বপুরুষের আতœার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আতœাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়, প্রয়াত আতœার যে সমাবেশ হয় তাহাকে মহালয়া বলা হয়।
শুভ মহালয়া পূণ্য প্রভাতে দেবী আবাহনে শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে অংশ গ্রহণ করবেন নারী শক্তি আয়োজিত শিববাড়ি পূজা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও ময়মনসিংহ মন্দির ভিত্তিক শিশু শিক্ষা কার্যক্রম এর শিক্ষকমন্ডলী, চন্ডী পাঠ করবেন শ্রী মনিভ’ষণ ভট্টাচার্য্য, মাতৃ সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকবেন, শ্রী প্রদীপ চক্রবর্তীসহ অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ। গীতি-আলেখ্য-দেবী সর্বার্থসাধিকে গ্রন্থনা, শ্লোক পাঠ ও সংগীত পরিচালনায় জাককানইবি’র সহকারি অধ্যপক আশিক সরকার। পরিবেশনায়-সুর-মুকুর। নৃত্য পরিচালনায় থাকবেন শ্রী মানস তালুকদার। উক্ত অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মালম্বীদের ভক্তবৃন্দ সহ পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

















